History of BITPA

ইনস্টিটিউটের আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট

আয়কর, কাষ্টম’স ও ভ্যাট অঙ্গনে যারা আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন, তারা কর, শুল্ক ও ভ্যাট দাতাদের এবং কর, শুল্ক ও ভ্যাট আরোপণ ও আহরণকারী কর্তৃপক্ষ উভয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হিসাবে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। উভয় পক্ষের বিষয়গুলো, বিদ্যমান আইন ও প্রয়োগ ব্যবস্থা অংগনে পেশায় নিয়োজিত আইনজীবী, কর আইনজীবী, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট, কষ্ট এন্ড ম্যানেজম্যান্ট একাউন্ট্যান্ট, কর্পোরেট হাউজে চাকুরীরত একাউন্ট্যান্ট বা কর্মকর্তাগণ ও অন্যান্য স্টেক হোল্ডারগণ অত্যন্ত বাস্তবতার সাথে অনুধাবন করে থাকেন। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যেখান থেকে দেশের উন্নয়নে সিংহভাগ অর্থের যোগান আসে। সুতরাং এই পেশায় যারা নিয়োজিত, তারা দেশের রাজস্ব আহরণ তথা উন্নয়নে সরাসরি যে ভূমিকা রাখে এতে কোন প্রকারের কোন দ্বিধা -দ্বন্ধ নেই। কিন্তু এ বিশাল গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যারা প্র্যাকটিস করেন বা কাজ করেন তাদের দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের কোন সরকারী উদ্যোগ নেই, বেসরকারীভাবেও নেই বললে চলে। ইদানিং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, জনাব মোঃ নজিবুর রহমান বলেছেন ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। ওনার এহেন চিন্তাধারাকে আমরা স্যালুট করি, সাধুবাদ জানাই। কর, কাষ্টম’স ও ভ্যাট- এই তিনটা সেক্টর দেশের রাজস্ব আহরণের মূল ভিত্তি। এসব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান চর্চার জন্য এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহন এখন সময়ের দাবী। তাছাড়া প্রাইভেট সেক্টরে এ সকল বিষয়ে ইনস্টিটিউট ও একাডেমী প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেক হোল্ডাররা দক্ষতার সাথে কাজকর্ম বা পেশা পরিচালনা করতে পারতেন। এতে করদাতারা যেমন উপকৃত হতেন, দেশের রাজস্ব আহরণ আরো বৃদ্ধি পেত, এবং এ সংক্রান্ত মামলার জটও হ্রাস পেত।

দেশে বাজেটের আকার প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর, ভ্যাট ও শুল্ক দাতাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে সে হারে মামলার সংখ্যাও। বিদ্যমান আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না, এতে করে মামলার জট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারী রাজস্ব আহরণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সরকার রাজস্ব আহরণে গতিশীলতা আনয়নের জন্য অউজ (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) ব্যবস্থাও সৃষ্টি করেছে। বেশি মামলা উদ্ভব ও জটের পেছনে বিদ্যমান দুর্বোধ্য আইন যতটুকু দায়ী, অনুরূপভাবে বিদ্যমান আইনের ব্যবহার ও প্রয়োগ জনিত সমস্যা ও রাজস্ব আহরণের প্রচলিত সিস্টেম ততঅংশে দায়ী। তদুপরি প্রতি বছরে অর্থ বিলের মাধ্যমে এবং সময় সময় ঝজঙ জারীর মাধ্যমে আইনের পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু ষ্টেক হোল্ডারদের ও পেশাজীবীদের সে সম্পর্কে ব্যাখ্যামূলক জ্ঞাতকরন সরকারী ও বেসরকোরী ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিদ্যমান আইন ও বিধি, বিরাজমান সিস্টেম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করন এবং সময় সময় সরকার কর্তৃক আনীত আইন ও বিধির পরিবর্তন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল আইনজীবী, পেশাজীবী, ব্যবহারজীবী ও ষ্টেক হোল্ডাররা যাতে সহজে জানতে ও বুঝতে পারে, সে বিষয় নিয়ে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ট্রেনিং ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এ ইনস্টিউটের মূখ্য উদ্দেশ্য।

হিসাব বিজ্ঞানের উপর অধ্যায়ন করে বা বিশেষ ডিগ্রী নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর একাউন্টস করা যায় তবে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট আইন ও বিধির প্রয়োগ নিশ্চিত করে একাউন্টস করা অত্যন্ত জটিল। তাই এ সকল আইন ও বিধির প্রয়োগ করে একাউন্টস তৈরীর হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্র্যাকটিক্যাল একাউন্ট্যান্ট সৃষ্টি করা এবং কর্পোরেট হাউজে নিয়োজিত একাউন্ট্যান্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে এ বিষয়ে প্র্যাকটিকেল প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে তোলাও এ ইনস্টিটিউটের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইনস্টিটিউটের নাম করনের মধ্যেও এ উদ্দেশ্য অর্ন্তনিহিত আছে।

এ ছাড়াও কমার্শিয়াল আইন ও কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর ব্যবহার ও প্রয়োগ করে অনেক আইনজীবী ও পেশাজীবী অত্যন্ত ভালোভাবে পেশা পরিচালনা করার সুযোগ আছে। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মস এ কোম্পানী ও ফার্ম সমূহের যে কর্পোরেট কাজকর্ম আইনগতভাবে কোম্পানী আইন ও অংশীদারী আইন অনুসারে বাধ্যতামূলক করতে হয়, সে বিষয়গুলোর উপর প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেয়াও এ ইনস্টিটিউটের উদ্দেশ্য।

আয়কর, কাষ্টম’স ও ভ্যাট বিষয়ের উপর যে সকল মামলায় বিরোধ দেখা দেয় সে সকল মামলা আপীল, ট্টাইব্যুনাল করার পরও যদি করদাতা সংক্ষুদ্ধ থাকে সেক্ষেত্রে ও কোম্পানী আইনের বিরোধীয় বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে কিভাবে রেফারেন্স মামলা, রীট দায়ের, বা কোম্পানী বেঞ্চে মামলা করা যায় সে বিষয়ে এবং আপীল, ট্টাইব্যুনাল এবং হাইকোর্টে মামলা চলমান অবস্থায় মামলার কার্য্যক্রম স্থগিত রেখে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কিভাবে অউজ (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) এ মামলা আনা যায় সে বিষয় সমূহের উপরও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এ ইনস্টিটিউটে।

আইনজীবী, কর আইনজীবী ও হিসাব পেশাজীবীগণ তথা এসব পেশায় কাজ করতে যারা সনদপ্রাপ্ত ও সক্ষম তাদের মধ্যে অনেকের ভিতরে সুপ্ত ইচ্ছা আছে এসব সেক্টরে কাজ করার এবং দেশের রাজস্ব আহরণে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখার। অনেকে কর্পোরেট অফিসে চাকুরীতে আছেন, বা কর আইনজীবী হয়েও অন্য পেশায় নিয়োজিত আছেন কিন্তু এসব সেক্টরে বিদ্যমান আইন, বিধি এবং প্রয়োগিক বিষয়সমূহের উপর, সিস্টেমের উপর যদি নিয়মিতভাবে জানার এবং চর্চার সুযোগ থাকত এসব সেক্টরে আরো অনেক মেধাবী আইনজীবী, কর আইনজীবী ও হিসাব পেশাজীবীগন আত্মনিয়োগ করতেন। এ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের কথা চিন্তা করেই এ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়া হয়।

সর্বোপরি আইনের চর্চা করা আইনজীবীদের মৌলিক কাজ এবং দায়িত্ব মনে করি আমরা। আইনের চর্চার মাধ্যমে আমরা শিখব এবং অন্যদেরকেও জানাব বা জানানোর একটি সুন্দর রাস্তা ও প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করে দেব, এই লালিত মানসিকতা থেকে এ ইনষ্টিটিউটের আত্মপ্রকাশ।




শুভেচ্ছান্তে,

মোহাম্মদ সোলায়মান
M.COM(ACC), C.A (C.C), LL.B, LL.M
এ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট (হাইকোর্ট ডিভিশন)।
চীফ কো- অর্ডিনেটর, BITPA
মোবাইল:- ০১৮১৯-৩২১১২৬, ফোন: ০৩১-২৮৫৭৪৯১।
E-mail: solaimanmohammad@yahoo.com

এম মহিউদ্দীন সারোয়ার
এ্যাডভোকেট
প্রাক্তন সভাপতি, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতি।
সম্মানিত উপদেষ্টা, BITPA
মোবাইল:- ০১৮১৯-৩৯২২২১।
E-mail: advmsarwar@yahoo.com